বিজ্ঞান বিভাগের স্টুডেন্টদের জন্য কিছু টিপস

পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আমাদের করনীয়

আমরা আমাদের পরীক্ষা গুলোতে ভালো ফলাফল করতে চাই । কিন্তু অনেক সময় আমরা সঠিক গাইডলাইন না থাকায় আমরা পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল পাই না । আজকে আপনারা এই আর্টিকেল পড়ে আশা করি একটা সঠিক গাইডলাইন পাবেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবেন ।
আর্টিকেলের বিষয়:-
১. পরীক্ষার আগে করনীয়
২. বিজ্ঞান বিভাগের স্টুডেন্টদের করনীয়
৩. এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি
৪. পরীক্ষার আগের রাতে করনীয়
৫. পরীক্ষার হলে কি কি করনীয়
একটা পরীক্ষায় রাতারাতি ভালো ফলাফল অর্জন করা যায় না । ভালো ফলাফলের জন্য চাই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও সেই মোতাবেক কাজ করা । পরীক্ষার আগে আপনারা নিম্ন লিখিত কাজ গুলো চর্চা করতে থাকলে আশা করি ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবেন ।

১. নিয়মিত সকালে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ

আমাদের দেহের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করার জন্য শক্তির প্রয়োজন । এই শক্তি আসে খাদ্য থেকে । আপনি চাইলেই সব খাদ্য থেকে এই শক্তি পাবেন না । এবার আসি শক্তি এত জরুরি কেন সেই প্রশ্নে । আমরা জানি আমাদের দেহের চালক হলো মস্তিষ্ক । মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরিচালনা করতে এই শক্তি প্রয়োজন যা আসে এই খাদ্য থেকে । সেই জন্যই খাদ্য বিশেষ করে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ আমাদের জন্য এত জরুরি ।
এক গবেষণায় দেখা গেছে যেসমস্ত শিক্ষার্থীরা সকালের নাশতা ঠিকমত খেয়েছে তারা পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো করেছে।
কারণ তাদের মনোযোগ দিতে এবং বিভিন্ন তথ্য স্মরণ করতে সহজ হয়েছে।
সুতরাং অবশ্যই সকালবেলা আপনাকে কিছুটা কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ করতেই হবে যেটা ধীরে ধীরে আপনার শরীরে শক্তি যোগাবে। যার জন্য আপনাকে ওটস, রুটি বা কম চিনি যুক্ত সিরিয়াল খেতে হবে সকাল বেলা ।
আপনার প্রোটিনের চাহিদাও কিছুটা পূরণ করতে হবে । তার জন্য আপনার দুধ, দই কিংবা ডিম খাওয়া জরুরী । অন্যান্য বেলার খাবারে মস্তিষ্কের জন্য ভালো এমন খাবার বেছে নিতে হবে ।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার স্বল্প-স্থায়ী স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সেইসাথে বদলে দিতে পারে মুড। সুতরাং বোঝাই যায় পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ কতটা জরুরি ।

২. নিয়মিত বিরতি, মুক্ত বাতাস এবং ব্যায়াম

কার্যকর রিভিশন মানে একটানা পড়ে যাওয়া নয় । আপনি যদি একটানা পড়তেই থাকেন তাহলে আপনার উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হবে । মাঝে মাঝে বিরতি মস্তিষ্ককে অধিক কর্মক্ষম রাখে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে একটানা ঘন্টার পর ঘন্টা পড়া স্টুডেন্টের চেয়ে ৪০-৪৫ পর পর বিরতি দিয়ে পড়া স্টুডেন্ট বেশি ভালো রেজাল্ট করেছে । কেননা দেহ ও মন একে অপরের সাথে অন্তর্নিহিত-ভাবে সম্পর্কিত।
শরীরচর্চা রক্ত প্রবাহ সচল রাখে, মস্তিষ্কে আরও অক্সিজেন সরবরাহ করে, ফলে কার্যক্ষমতাও ভালো হয়।
নিয়মিত ব্যায়াম উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে ।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে মুক্ত বাতাসে কিছু সময় কাটিয়ে নিজের পড়ার ডেস্কে ফিরে আসতে পারেন সতেজ হয়ে এবং তা আপনাকে আরও মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে।

৩. পর্যাপ্ত ঘুম

আমরা অনেকেই পরীক্ষার আগের রাতে কম ঘুমাই এটা উচিত নয় । পরীক্ষার আগের রাতে অবশ্যই রাতে ভালো ঘুম দিতে হবে, কিন্তু সেটা পুরো রিভিশন কালীন সময়েই প্রয়োজন।
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে গেলেই আপনি সকালে নির্দিষ্ট সময়ে জেগে উঠতে পারবেন। তাছাড়া রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে সকালে তাড়াতাড়ি উঠলে পড়ায় অনেক উপকার আছে ।
কখনো কখনো রাতের বেলা রিভিশন দেয়ার প্রয়োজনীয়তা হতে পারে তবে চেষ্টা করতে হবে তেমন পরিস্থিতি এড়াতে।
ঘুমানোর সময় নিয়মিত রাখার চেষ্টা করুন এবং মোবাইল বা রাতে টেলিভিশন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা বন্ধ করুন।

বিজ্ঞান বিভাগের স্টুডেন্টদের জন্য কিছু টিপস :

আপনারা যারা বিজ্ঞান বিভাগের স্টুডেন্ট তাদের অনেক ধরনের পড়া পড়তে হয় । অনেক অনেক থিউরি জানতে হয় । এগুলো আপনাকে এমন ভাবে জানতে হয় যেমন ভাবে আপনি স্বরবর্ণ জানেন তেমন ভাবে । তো এমন ভাবে পড়ার জন্য আপনাকে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে না হলে আপনি পড়াশোনা করে আগাতে পারবেন না ।
আমরা সবাই জানি যে বিজ্ঞান এমন একটা সাবজেক্ট যেখানে মুখস্থ বিদ্যা কাজে খাটে না । এখানে যুক্তিনির্ভর এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিতে হয় ।
এছাড়া বায়োলজি সাবজেক্টে এমন এমন বিষয় আছে যেগুলো আপনি কখনো চোখের সামনে দেখেনই নাই কখনো । এক্ষেত্রে আপনি পড়ার জন্য তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারেন ।
তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য আপনি এইসব জিনিস খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পারবেন । এছাড়া আপনাকে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে এবং বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করতে হবে এতে আপনাদের দক্ষতা বাড়বে । এগুলো করার পাশাপাশি নিচে উল্লেখ করা বিষয়গুলো ফলো করতে পারলে আপনি নিশ্চয়ই ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন ।
এতক্ষণ আপনাদের অভ্যাসগত কিছু টিপস শেয়ার করেছি এবার আপনাদের পড়ালেখার কিছু অতি অত্যাবশক টেকনিক শেয়ার করব । এই টেকনিক গুলো এস এস সি পরীক্ষার্থীদের জন্য অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।

এস এস সি পরীক্ষার্থীরা নিম্ন লিখিত টিপস্ গুলো ফলো করুন আশা করি ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবেন ।

১. আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করা

পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসার আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে । এটা আপনাকে রাখবে শান্ত স্থির । সকাল বেলা পড়ার চেষ্টা করুন কেননা সেইসময় ব্রেইন সতেজ এবং শিথিল থাকে। রিভিশন কখনোই পরের বেলার জন্য রেখে দেওয়া ঠিক কাজ নয় কারণ দুপুর বা বিকেলের দিকে আপনি আরও বেশি ক্লান্ত বোধ করতে পারেন ।
সবচেয়ে ভালো হয় যদি রিভিশন দেয়ার জন্য একটি রুটিন তৈরি করে নেয়া যায়: এর ফলে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ শুরু এবং শেষ করা সম্ভব হবে।

২. কোন বিষয়টিতে ফোকাস করবেন সেটি ঠিক করুন

মৌখিক পরীক্ষা? প্র্যাকটিক্যাল? নাকি বিষয় ভিত্তিক?
বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের মনোভাব কাজ করে। সুতরাং পরীক্ষার ধরণ বুঝে কি পরিমাণ সিলেবাস বা পাঠ্যসূচি পড়তে হবে তা অনুধাবন করতে হবে।
সহজবোধ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সমগ্র বিষয় বারবার প্রয়োজন নাও হতে পারে। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর ফোকাস ঠিক করে সে বিষয়ে গভীরভাবে পাঠ নিতে হবে। আবার মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেন বা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রের ক্ষেত্রে আরও বিশদ পাঠের প্রয়োজন হবে।
পরিকল্পনা গ্রহণ
এটাকে সময়সাপেক্ষ মনে হতে পারে কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ রিভিশন পরিকল্পনা প্রকৃতপক্ষে আপনার সময়কে বাঁচিয়ে দেবে।
প্রতিদিন কতটুকু রিভাইজ দেবেন সেটা ভাববার জন্য এক মিনিটও সময় নষ্ট করতে হবেনা। এটা আপনার পাঠের কতটা অগ্রগতি হল সেটা যাচাই করারও একটা উপায় বটে।
তবে মনে রাখতে হবে একেকটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে নেয়া কৌশল অন্য ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। যে কারণে সবসময় রিভিশন শুরু করতে হবে আগেভাগে।
তাই অভিনব জিনিসের পেছনে সময় এবং টাকার অপচয় করে লাভ নেই পরীক্ষার সময় তা কোন কাজেই আসবে না।

৩. নিজেই শিক্ষক হয়ে উঠুন এবং নিজেকে যাচাই করুন

“নিজেকে যাচাইকরণ” অবশ্যই তথ্য-উপাত্ত মনে রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়, এমনটাই বলেছেন মনোবিজ্ঞানী এবং স্নায়ুবিজ্ঞানীরা।
এর ফলে কোনকিছু মুখস্থ করার চেয়ে তা বোঝা অনেক বেশি সহায়ক হয়, এবং সেটা আপনার জ্ঞানের কোন ফাঁক-ফোকর থাকলে তা অনুধাবন করতে সুযোগ দেয়।
তো আপনি রিভাইজ দিয়েছেন, নিজেকে যাচাই করেছেন-এরপর কী? এবার গিয়ে নিজের লব্ধ জ্ঞান অন্য একজন কাউকে শেখাতে শুরু করুন, অবশ্যই।
এটা একটা বহুল পরিচিত কৌশল। এটা আপনার স্মরণশক্তিকে উদ্দীপিত করে এবং মনে রাখতে সাহায্য করে।
আর অন্য কাউকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আপনার নিজেকে একটি পরিষ্কার এবং কাঠামোগত পদ্ধতিতে আপনার জ্ঞান অর্জন করতে হবে-সেটাও বড় ভূমিকা রাখবে।

৪. স্মার্ট হয়ে উঠুন এবং ফোনটি লুকিয়ে রাখুন

ফোনের তো অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা আছে কিন্তু লেখাপড়ার সময় নয়।
সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে বিভ্রান্ত করবে।
এটা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে যত বেশি আপনি ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন আপনার নম্বর বা গ্রেড তত কম হবে।
এবং এমনকি ভাববেন না যে আপনি টেবিলের উপর ফোনটি রেখে দেবেন এবং তা স্পর্শ করবেন না: গবেষণায় দেখা গেছে যে সামনে থাকা ফোনটির দিকে কেবল তাকালেও আপনার মনোযোগ নষ্ট করে দেয়া জন্য তা যথেষ্ট।

৫. পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের টেকনিক হলো পড়ালেখার পরিবেশ তৈরী করে পড়তে বসুন

অর্থাৎ পরীক্ষায় ভালো করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল পরিবেশ তৈরি করা। পরিবেশ তৈরি করার জন্য কয়েকটি কাজ আপনাকে করতে হবে।
প্রথমে আপনি আপনার মোবাইলকে আপনার থেকে দূরে রাখুন। পারলে বন্ধ করে রাখুন।
হইচই, হট্টগোল ইত্যাদি বিভিন্ন রকম আওয়াজ থেকে দূরে গিয়ে পড়ুন।
পর্যাপ্ত আলোর নিচে পড়তে বসুন। কেননা রুমে আলো কম হলে মাথা ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি পড়ালেখায় মনোযোগ কমে যায়।
চেয়ার টেবিলে বসে পড়ুন। কেননা বিছানায় বসে পড়লে অলসতা আসবে তারপর পড়ালেখায় মনোযোগ কমে যাবে। তারপর শুতে মন চাবে। এভাবে আর লেখাপড়া হবে না।
যেসব শিক্ষার্থীরা গান শুনতে শুনতে পড়াশোনা করেন তাদের তুলনায় যারা শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ লেখাপড়া করেন তাদের স্মরণশক্তি ভালো হয়।
গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে। সুতরাং পাঠের কক্ষের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।
পুরো প্রক্রিয়া-জুড়ে শান্ত এবং ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন এবং যদি আপনার কখনো খারাপ সময় আসে তাহলেও।

৬. নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা

নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকলে আপনি অনেক খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানতে পারবেন। শিক্ষক কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারবেন ।
পরীক্ষায় কোনটা আসবে বা আসবে না অনেক সময় শিক্ষক বলে দিয়ে থাকেন।আর এটা পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক কাজে দেবে।

৭.নোট তৈরি করে পড়া

পড়ালেখার সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলোকে নোট করা। এর দ্বারা পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়ে। এবং পড়ালেখার চাপ কমে যায়।
ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। আর পরীক্ষায় প্রস্তুতি ভালো হলে পরীক্ষায় সফল হওয়ার আশা করা যায়।

৮/ পরীক্ষায় ভালো করার উপায় হলো সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা

পরীক্ষার খাতায় সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা। এর দ্বারা শিক্ষকদেরকে আকর্ষণ করে। আর এটা নাম্বার বেশি পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হয়।
আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলো: আপনি যদি অনেক প্রস্তুতি নেন পরীক্ষার কিন্তু খাতায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করলেন না তাহলে এরকম প্রস্তুতির কোন দাম নেই।
অতএব আপনাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে লিখতে হবে।

৯. হাইলাইট করুন

গুরুত্বপূর্ণ পড়াগুলো কোন কলম দিয়ে হাইলাইট করুন। এতে করে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয় । কারণ রিভিশন দেওয়ার সময় আপনি খুব সহজেই মার্ক করা গুরুত্বপূর্ণ টপিকস গুলো পেয়ে যাবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই ।

১০.পুরাতন প্রশ্ন থেকে আইডিয়া নিন

বিগত বছরের পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন থেকে আইডিয়া নেওয়া। এতে করে আপনি প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে ধারণা পাবেন । এগুলো চর্চা করলে আপনার প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা জন্মাবে ।
তবে সাবধান এই সমস্ত প্রশ্নের উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। বরং এ সমস্ত প্রশ্ন থেকে আইডিয়া নিতে হবে।

১১. পরীক্ষায় ভালো করার উপায় হলো প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন পড়া

অর্থাৎ ক্লাসে যে প্রতিদিন পড়া দেয় সেই পড়া তৎক্ষণাৎ পড়ে ফেলুন। এবং বিশেষ বিশেষ জায়গা গুলো নোট করে রাখুন। আপনি যত পড়া জমিয়ে রাখবেন তত আপনার পড়ার প্রেশার বাড়বে । তাই প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন পড়ে ফেলা খুব জরুরী ।
এই কাজটা পরীক্ষার মধ্যে অনেক কাজে দিবে‌ এবং পরীক্ষার মধ্যে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা রাখবে।

১২. সময় নির্ধারিত করুন

পড়ালেখার জন্য সময় নির্ধারণ করুন । প্রথমে একটি সময় নির্ধারণ করুন যে এত ঘন্টা থেকে এত ঘণ্টা লেখাপড়া করবেন।
পাশাপাশি প্রত্যেকটি সাবজেক্টের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ করুন। এর ফলে অল্প সময়ে আপনি অনেক পড়ালেখা করতে পারবেন।
পাশাপাশি পড়ালেখায় মনোযোগ বেড়ে যাবে। আর পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়লে পরীক্ষায় সফল হওয়া যাবে।

১৩. পরীক্ষায় ভালো করতে পরীক্ষা দিন

অর্থাৎ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য প্রতি সাপ্তাহে অথবা প্রতিমাসে আপনি যা শিখেছেন তার উপর পরীক্ষা দিন।
তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনি কতটুক শিখতে পেরেছেন। এর কারণে আপনার নিজের উপর আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে এবং পরীক্ষার ভয় দূর ভীত হয়ে যাবে।
পাশাপাশি পিছনের পড়া গুলো মনে থাকবে এবং পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হবে। ফলে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট হবে।

১৪. বারবার পড়া

অর্থাৎ কোন পড়া যদি কঠিন হয়। তাহলে সেটা মুখস্থ করার জন্য বারবার পড়া। যাতে করে ব্রেনে ওই পড়াটা বসে যায়।
পাশাপাশি কয়েকবার লেখা। কেননা একটি কথা আছে একবার লেখা দশবার পড়ার সমান। তবে যে সমস্ত বিষয় কঠিন না সেগুলোও কয়েকবার পড়া।
যাতে করে ব্রেনে বসে যায়। আর এর দ্বারা পরীক্ষা ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হয়।

১৫. পরীক্ষায় ভালো করার উপায় হলো পরীক্ষার প্রস্তুতি অনেক আগে থেকে নেওয়া

পরীক্ষা আসার আগে থেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া। যাতে করে পরীক্ষার সময় চাপ না পড়ে। কেননা যদি আগে থেকে প্রস্তুতি না নেওয়া হয়।
তাহলে পরীক্ষার সময় মনে হবে মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ছে পরীক্ষার চাপের কারণে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হল পরীক্ষা আসার আগে থেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া।
এতে করে পরীক্ষার সময় চাপ কম হয় পাশাপাশি পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়ে। এবং পরিপূর্ণভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
আর পরিপূর্ণভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলে পরীক্ষায় অবশ্যই সফল হওয়া

১৬. পরীক্ষার আগের রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো

পরীক্ষায় ভালো করার একটি উপায় হল পরীক্ষার আগের রাত্রে তাড়াতাড়ি ঘুমানো। আমারা অনেকেই পরীক্ষার আগের রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাই না বরং গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকি । এটা ঠিক না । পরীক্ষার সমস্ত প্রস্তুতি পরীক্ষার আগের দিনে শেষ করবে এবং পরীক্ষার রাত্রে তাড়াতাড়ি ঘুমাবে।
যাতে করে মাথা ঠান্ডা থাকে। কেননা যদি পরীক্ষার রাত্রে জাগা হয় তাহলে মাথা গরম থাকবে। আর মাথা গরম থাকলে পরীক্ষার হলে গিয়ে কোন কিছুই মনে আসবে না।
তাই মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য আগে আগেই ঘুমাতে হবে।

১৭. পরীক্ষায় ভালো করার উপায় হলো উৎসাহ দেওয়া

অর্থাৎ নিজেকে সর্বদা উৎসাহ দেওয়া যে, আমি অবশ্যই পারবো। সবাই যেহেতু পারে আমিও পারবো। এবং বড় বড় সফল মানুষদের জীবনী পরে উৎসাহ নেওয়া। এবং সর্বদা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করা।
সর্বশেষ কথা হল : এতক্ষণ পরীক্ষায় ভালো করার উপায় বললাম। যদি এগুলো ফলো করেন তাহলে আশা করি ইনশাআল্লাহ অবশ্যই পরীক্ষায় সফল হবেন।

পরীক্ষার রুমে কি কি করলে ফলাফল ভালো হবে দেখে নিন :-

১/ পরীক্ষার হলে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। এর জন্য পরীক্ষার সকালে অল্প সময় হলেও ঘুমানো । পড়ালেখা বেশি না করা। পরীক্ষার জন্য যত প্রস্তুতি আছে পরীক্ষার আগের রাতেই শেষ করা এবং তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়া। তাহলে আপনার মাথা ঠান্ডা থাকবে।
২/ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে সর্বপ্রথম ভালোভাবে প্রশ্ন গুলো বুঝা।
৩/ যে সমস্ত প্রশ্ন সহজ লাগে সেগুলোর উত্তর আগে দেওয়া।
৪/পরীক্ষার সময় তাড়াহুড়া না করে ধীর স্থির ভাবে পরীক্ষা দেওয়া।
৫/ উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সময় এর প্রতি লক্ষ্য রাখা। যাতে করে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন।
উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো ভালোভাবে চর্চা করলে আশা করি আপনাদের রেজাল্ট ভালো হবেই হবে ইনশাআল্লাহ ।

মন্তব্য করুন

Sorry this site disable right click
Sorry this site disable selection
Sorry this site is not allow cut.
Sorry this site is not allow copy.
Sorry this site is not allow paste.
Sorry this site is not allow to inspect element.
Sorry this site is not allow to view source.

You cannot copy content of this page

error: এই সাইটের যেকোনো ছবি,ভিডিও,আর্টিকেল কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত !!
Don`t copy text!